একাদশ সংসদ নির্বাচন, সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের দৌড়-ঝাপ

 
 

21935447_2040977382792251_1967371829_n(1)একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো প্রায় দেড়বছর বাকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠ গরম করে রেখেছেন। গণসংযোগ, পথসভা,পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-টুইটার ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট ও বিএনপি সমর্থিত ২০ দলীয় জোট মিলে প্রধান দু’টি জোটের পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডে তদবির-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ান না পেলেও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ন হতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদীয় আসনে প্রধান চারটি রাজনৈতিক দলই শক্ত প্রার্থী দেবে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তো আছেনই। তবে তার বিপরীতে লড়তে ইতোমধ্যেই মাঠ গরম করে তুলেছেন শাসকদলের দলের সম্ভ^াব্য আরো কয়েকজন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী ছাত্রনেতা যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সাবেক ভিপি সফিক উদ্দিন, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্ল¬ব। তারা সকলেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন না পেলেও তাদের অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে পারেন।

সরকার বিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিও বসে নেই। এ দল ও একক প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে দলেল সম্ভাব্য প্রায় অর্ধডজন প্রার্থী বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপির প্রার্থীরা হচ্ছেন- প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী, সাবেক এমপি ড. মকবুল হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টার ও জাসাস কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী চিত্রনায়ক হেলাল খান। জামায়াতে ইসলামী থেকে দলের দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টি থেকে সেলিম উদ্দিন এমপি, সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমদ।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা আসনের দুই উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন। নিজেদের দখলে মাঠ রাখতে মাঠে ঘাটে বেঁধে নেমেছেন তারা। গনসংযোগ, উঠোন বৈঠক, বিয়ে-শাদি, ধর্মীয়, সামাজিক অনুষ্ঠান সবখানেই পরিলক্ষিত হচ্ছে তাদের সরব উপস্থিতি। অনেকেই শুধু প্রার্থী তালিকায় নাম প্রচারের জন্য ফন্দি-ফিকির করলেও অনেকে নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসীন এই নেতা । স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় এই আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুই যুগ আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাবেক জেলা সভাপতি মরহুম লুৎফুর রহমান। এরপর বিভিন্ন জোটের শরিকদের জন্য বিএনপি এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এবার বিএনপি নেতারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবার তারা নির্বাচন করতে পারবেন। এর কারণ হিসেবে তারা দেখছেন দুই উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের যোগফল ছিল সবার ওপরে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম দলের সভাপতি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে কয়েকটি ফেস্টুন টাঙ্গিয়েছেন তিনি। ফেষ্টুনে আকার ইঙ্গিতে সিলেট-৬আসনে প্রার্থীতার আভাস দিয়েছেন তিনি।

গত ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। নির্বাচনে পরাজিত হলেও বিগত দিনগুলোতে মাঠ ছাড়েননি তিনি। দলের সভা-সমাবেশ ছাড়াও ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন জোটগত নির্বাচন হোক আর দলীয় হোক মাওলানা হাবিবুর রহমানই হবেন এই আসনের আগামী দিনে আওয়ামী প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। জাতীয় পার্টি থেকে বিগত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য হন জাপা চেয়ারম্যন এরশাদের উপদেষ্টা বিয়ানীবাজার উপজেলার সেলিম উদ্দিন। এই নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়ে কাজ করে আসছিলেন। দলের চেয়ারম্যান এরশাদ গোলাপগঞ্জে এক পথসভায় তাকে সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দিয়ে ছিলেন। কিন্তু সিলেট-৫ আসন থেকে দলীয় টিকিটে এমপি হলেও বিগত দিনগুলোতে তিনি ছাড়েন নি সিলেট-৬ আসনের এমপি হওয়ার প্রত্যাশা। তাই তিনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারেও দলীয় এবং নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে তিনি জাপার মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) থেকে এবার মনোনয়ন চাইতে পারেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমদ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন থাকলেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত কোন কোন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে পারেন ,এমন সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিতে পারছে না পর্যবেক্ষক মহল।