উ.কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বাঁধলে ‘২১ দিনে প্রাণহানি ২০ লাখ’

 
 

3412

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালনা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার ওপর সবশেষ যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল মনে করছেন কিম প্রশাসন।

আর সত্যি সত্যিই যদি পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বেঁধে যায় তবে কি হতে পারে? ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই বা কেমন হবে? কত লোকের প্রাণহানি হবে?

সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি যেটুকুই হোক- যুক্তরাষ্ট্র-উ.কোরিয়া যুদ্ধ শুরু হলে প্রথম তিন সপ্তাহে (২১ দিনে) প্রায় ২০ লাখ লোকের প্রাণহানি হতে পারে।

বিবিসিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উত্তর কোরিয়ার দুজন বিশেষজ্ঞ এ ধারণার কথা জানিয়েছেন।

দুই বিশেষজ্ঞের একজন হলেন ডেভিড ম্যাক্সওয়েল, যিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর হয়ে কোরিয়া অঞ্চলে কাজ করেছেন এবং আরেকজন ব্রুস বেকটল- যিনি পেন্টাগনের সাবেক একজন বিশ্লেষক।

ডেভিড ম্যাক্সওয়েল বলছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার একজন সেনানায়ক এক্ষেত্রে যা করতে চাইবেন তা হলো – তাদের গোলন্দাজ বাহিনীর ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার – যার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় যত বেশি সম্ভব মৃত্যু ও ধ্বংস ঘটানো। প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উত্তর কোরিয়া থেকে আক্ষরিক অর্থেই লক্ষ লক্ষ কামানের গোলা ও রকেট বৃষ্টির মতো পড়তে থাকবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর। এর অনেকগুলো পড়বে রাজধানী সোলের ওপরও।’

ম্যাক্সওয়েল আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার রিজার্ভ বাহিনীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। তাই তাদের বলা যেতে পারে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ সামরিক বাহিনী। যখনই তাদের নেতা কিম জং আন মনে করবেন যে তিনি হুমকির মুখে- তখনই তিনি আক্রমণের নির্দেশ দেবেন। এ নির্দেশ বহু কারণে আসতে পারে। মার্কিন বাহিনীর বা তাদের মিত্ররা যদি নিজেরাই আগে আক্রমণ করে, বা কোন একটা ভুল পদক্ষেপও নেয়- তা থেকেও এটা ঘটে যেতে পারে।’

এ পরিস্থিতিতে আমেরিকানদের কি প্রতিক্রিয়া হবে? জানতে চাইলে ব্রুস বেকটল বিবিসিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হবে বিমানবাহিনীর শক্তি ব্যবহার করা এবং উত্তর কোরিয়ার বাহিনীকে যতটা সম্ভব আটকে রাখার চেষ্টা করা। মার্কিনীরা অবশ্যই চাইবে যতটা সময় নেয়া যায়। কারণ, এ সময়ের মধ্যেই তারা ট্যাংক, ট্রাক, সাঁজোয়া যান, কামান ইত্যাদি ভারী সামরিক সরঞ্জাম এবং স্থল সেনাদের যুদ্ধজাহাজের বহরে ওঠানোর চেষ্টা করবে।’

তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে মেরিন কোরের সৈন্যরা জাপান থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে তিন বা চারদিন। টেক্সাস থেকে ভারী ট্যাংকগুলোকে নিয়ে আসতে সময় লাগবে প্রায় তিন সপ্তাহ।’

যদি যুক্তরাষ্ট্র-উ.কোরিয়া যুদ্ধ লেগেই যায় তবে তার সমাপ্তিটা কি রকম হতে পারে?

ব্রুস বেকটলের সহজ উত্তর, ‘উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্র, খাদ্য, জ্বালানি ইত্যাদির যা মজুত আছে তাতে তারা দুই থেকে তিন সপ্তাহ যুদ্ধ করতে পারবে। তাদের পরিকল্পনার মূল কথাই হবে যে এই সময়ের মধ্যেই যা করার তা করে ফেলতে হবে। কারণ এর পর তাদের কিছুই থাকবে না। তাদের সামরিক ইউনিটগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করার সাথে সাথে যুদ্ধের তীব্রতাও কমে আসবে। সে সময় কিম জং উন বুঝতে পারবেন যে তার আর যুদ্ধ করার মতো ক্ষমতা নেই।’

তার কথায়, ‘কিন জন উন বুঝতে পারবেন তাদের আর যুদ্ধ করার শক্তি নেই তখনই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার শুরু করবে। আর তাতে অন্তত কয়েক লাখ মার্কিনীর প্রাণহানি হবে।’