ইসরাইলি বর্বরতায় ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত

 
 

৪৫২৩৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে তীব্র বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ২০০ জন আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর একদিনে ফিলিস্তিনি নিহতের এ সংখ্যা এটিই সর্বোচ্চ।

সোমবার জেরুজালেমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। তারা এ পদক্ষেপকে পুরো নগরীর ওপর ইসরাইলি শাসনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন হিসেবেই দেখছেন। যে জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলকে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি এবং ইসরাইলি নেতাদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী ঘোষণায় ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেইডম্যান বলেন, আজ আমরা ইসরাইলের জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খুলছি।

ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য রেখেছেন ভিডিও লিংকের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ইসরাইল একটি সার্বভৌম জাতি। তাদের নিজেদের রাজধানী নির্ধারণের অধিকার আছে। কিন্তু বহুদিন ধরে আমরা এ সুস্পষ্ট বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিতে পারিনি।

একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্যও ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।

অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু দূতাবাসের উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্পকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দিনটিকে ইসরাইলের জন্য ‘গৌরবোজ্জ্বল দিন’ বলে বর্ণনা করেন।

দূতাবাস খোলার আগে থেকেই গাজা সীমান্তে মারমুখী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ৬ শিশু  এবং হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা এক ব্যক্তিও আছেন।

‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গাজার শাসনক্ষমতায় থাকা হামাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিরা ছয় সপ্তাহ ধরে সীমান্তে বিক্ষোভ করে আসছেন।

নিজ ভূমিতে ফেরত যাওয়ার অধিকারের দাবিতে ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৮৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এ হত্যাকা- নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার জেরুজালেমে উদ্বোধন করা নতুন মার্কিন দূতাবাসের সামনে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গেও ইসরাইলি পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। আটক হয়েছেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী।

জেরুজালেমে বর্তমানে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরই ছোট আকারে দূতাবাসের কাজ শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। পরে ইসরাইলের তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস পুরোপুরি উঠে গেলে তখন বড় একটি জায়গা খুঁজে নিয়ে সেখানে দূতাবাস ভবন করা হবে।

ইসরাইল রাষ্ট্রের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনটিতেই মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলো।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইসরাইলে যান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ও তার স্বামী জারেড কুশনার। তারা দুইজনই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।

কুশনার-ইভাঙ্কা দম্পতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মিউচিন ও উপ-পরাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার এ সিদ্ধান্তকে ইসরাইল প্রশংসা করলেও ফিলিস্তিনিরা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছেন। দূতাবাস খোলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য জেরুজালেমে জমায়েত হন তারা।

জেরুজালেমকে নিজেদের ‘শাশ্বত ও অখ-’ রাজধানী বলে বিবেচনা করে ইসরাইল। অপরদিকে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম দাবি করেন। তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।