ই’তিকাফ আহকাম ও ফজিলত

 
 

243645

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশদিন ই’তিকাফ করা সুন্নাত। ই’তিকাফের সবচেয়ে উপযোগী সময় হলো রমজান। একাগ্রচিত্তে আল্লাহ তা’আলার ইবাদতের উদ্দেশে, ক্বদর রাত প্রাপ্তির নিশ্চিত প্রত্যাশায়, সুনির্ধারিত পন্থায় মসজিদে অবস্থান করাকে ই’তিকাফ বলে। ই’তিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসূল সা. ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশদিন নিয়মিত ই’তিকাফ করতেন। পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরাম এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন। সে হিসেবে রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করা সুন্নাত। যা কুরআন হাদীস ও ইজমায়ে উম্মাহ দ্বারা প্রমাণিত। ই’তিকাফের ফজিলত পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ই’তিকাফ সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াতে নাযিল করেছেন। হযরত ইবরাহিম আ. ও ইসমাইল আ. প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে- ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো’। (সূরা বাকারা – ১২৫) ই’তিকাফের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সা. এর সহধর্মিণী হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল সা. প্রত্যেক রমজানে ই’তিকাফ করতেন। (সহীহ বুখারী- ২০৪১) হযরত আয়েশা আরো বর্ণনা করেন যে, ‘রাসূল সা. রমজানের শেষের দশ দিন ইন্তেকাল পর্যন্ত ই’তিকাফ করেছেন। এরপর তাঁর স্ত্রীগণ ই’তিকাফ করেছেন’। (সহীহ বুখারী-২০২৪ ও মুসলিম -১১৭২) হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন যে, ‘রাসূল সা. প্রতি রমজানে দশ দিন ই’তিকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর বিশ দিন ই’তিকাফে কাটান’। (সহীহ বুখারী – ২০৪৪) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এক দিন ই’তিকাফ করে, আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তি ও জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দক পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করেন। প্রতিটি খন্দক পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়েও অনেক দূর। (তাবরানী ও হাকেম) হযরত আলী বিন হোসাইন রা. পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ই’তিকাফ করে, তা দুই হজ্ব ও ওমরার সমান। (বায়হাকী) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- ই’তিকাফকারী গোনাহ থেকে বিরত থাকে। তাই, তাকে সব নেক কাজের কর্মী হিসেবে বিবেচনা করে বহুগুণ সাওয়াব দেয়া হবে।( ইবনে মাজাহ) ই’তিকাফের শর্ত ১. মুসলমান হওয়া, ২. আকেল হওয়া অর্থাৎ পাগল না হওয়া, ৩. বালেগ হওয়া, ৪. নিয়ত করা, ৫. ফরজ গোসল সেরে পবিত্র হওয়া (মহিলারা হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া) ৬. মসজিদে ই’তিকাফ করা, ৭. রোজা রাখা। ই’তিকাফের উপকারিতা ০১. ইতেকাফকারী জামাতে নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এক নামাজের পর আর এক নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি এক নামাজের পর আর এক নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ফেরেশতারা তার জন্য আল্লাহর নিকট দো’য়া করে, হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন, তার প্রতি দয়া করুন। ০২. ই’তিকাফকারী শবে কদরের তালাশে মগ্ন থাকে। শবে কদর রমজানের যে কোন বে-জোড় রাত্রিতে হতে পারে। তাই আল্লাহ তা’আলা সেই মহিমান্বিত রাতটিকে আমাদের কাছ থেকে গোপন রেখেছেন, যেন আমরা তাকে তালাশ করতে থাকি। ০৩. ই’তিকাফের ফলে বান্দার সাথে আল্লাহ তা’আলার সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মন ব্যকুল হয়ে পড়ে। ০৪. ই’তিকাফের মাধ্যমে বান্দা তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। শেষ রাতে তাওবা করার সুযোগ লাভ হয় এবং কায়মনোবাক্যে দো’য়ার কারণে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করা যায়।। ০৫. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ০৬. ইবাদতে সময়কে সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যায়। ০৭. অহেতুক কথা, কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে সংযত থাকার অভ্যাস গড়ে ওঠে। ০৮. ই’তিকাফ অবস্থায় লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা সহজ হয়। ০৯. ই’তিকাফের মাধ্যমে মসজিদের ইবাদতের সম্পর্ক বৃদ্ধি হয় এবং মসজিদে থাকার অভ্যাস গড়ে ওঠে। ১০. ই’তিকাফকারী দুনিয়াবী কর্মকা- থেকে বিরত থাকার কারণে ইবদাত বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি হাসিল করতে সক্ষম হয়। ১১. খারাপ অভ্যাস ও কুপ্রবৃত্তি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং আল্লাহর ভীতি অন্তরে জাগ্রত হয়। ১২. মসজিদে ই’তিকাফের ফলে মানুষ কবর ও আখেরাতমূখী হয়ে গড়ে ওঠে। দুনিয়াবী পাপাচার থেকে মুক্ত থাকার অভ্যাস সৃষ্টি হয়।