ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু আর্জেন্টিনার

 
 

212``স্পোর্টস ডেস্ক :: ডাগ আউটে বসে লিওনেল মেসি। অথচ ইতালির বিপক্ষে তাকে ঘিরেই বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সারতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। দলের সেরা খেলোয়াড় চোটের কারণে খেলতে না পারার যে হতাশা ম্যাচের শুরুতে ছিল, সেটা দূর হয়ে গেছে শেষ মুহূর্তের দুই গোলে। মেসিকে ছাড়াই ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যানচেস্টার সিটির মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক এভার বানেগা ও মানুয়েল লানজিনি। ৭৫ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেন বানেগা। আর ৮৫ মিনিটে চমৎকার এক গোল করে লাতিন আমেরিকার দলটির জয় নিশ্চিত করেন লানজিনি।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণ বেশি চালিয়েছে ইতালি। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে খুব। তবে বদলি হিসেবে বানেগা নামার পরই পাল্টে যায় সাম্পাওলির দলের খেলা। তার ছোঁয়ায় আলবিসেলেস্তেরা এগিয়েও যায়। ৭৫ মিনিটে জিওভানি লো চেলসোর সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান খেলে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে আড়াআড়ি শটে বল জালে জড়িয়ে দেন বানেগা।

শেষ বাঁশি বাজার মিনিট পাঁচেক আগে আবার গোলোৎসবে মাতে লাতিন দলটি। এবার প্রতিআক্রমণ থেকে গোল পায় তারা। গনসালো হিগুয়েইনের পাস ধরে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে চমৎকার শটে জাল খুঁজে পান লানজিনি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা গোল পায়নি জিয়ানলুইজি বুফনের বীরত্বে। অন্তত তিনটি গোল বাঁচিয়েছেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। ১৭তম মিনিটে আনহেল দি মারিয়ার কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেড করেছিলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। হেডে গতি ছিল বেশ, তবে নিচু হয়ে আসা বল ঝাঁপিয়ে একেবারে গোললাইন থেকে প্রতিহত করেন জুভেন্টাস গোলরক্ষক।

তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে। ওয়ান টু ওয়ানেও যে গোল করতে পারেননি গনসালো হিগুয়েইন! দি মারিয়ার ডিফেন্স চিড়া পাস বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। সামনে ছিলেন কেবল তার জুভেন্টাস সতীর্থ বুফন। সুবর্ণ এই সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেননি হিগুয়েইন। তার ব্যর্থতার বিপরীতে বুফন আবারও দেখালেন কেন তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রথমার্ধে গোছানো ফুটবল না খেলতে পারলেও বল পজেশন ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। মেসি না থাকায় আক্রমণ ঠিক গোছানো ছিল না। অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বারবার আটকে গেছে তারা। সেই সঙ্গে দুর্ভাগ্য যোগ হওয়ায় গোলের দেখা পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় দৃশ্য। সুযোগ বেশি তৈরি করে ইতালি। ৫৮ থেকে ৬১- এই তিন মিনিটে ২ গোলে এগিয়ে যেতে পারতো আজ্জুরিরা। শুরুটা করেছিলেন লরেঞ্জো ইনসিগনি। গোলমুখের সামনে থেকে বল পায়ে লাগাতে পারেননি। পরের মিনিটে চিরো ইমোবিলের মিসটা আরও হতাশার। গোলরক্ষককে একা পেয়েও মারেন তার গায়ে।

ওই সুযোগ দুটো কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে ইতালিকে। পরে বানেগা ও লানজিনি জ্বলে ওঠায় হার নিয়ে ছাড়তে হয়েছে মাঠ। বিশ্বকাপ খেলতে না পারার হতাশা কাটানো যে মিশনে মাঠে নেমেছিল ইতালি, সেটা আর সফল হলো না। আর্জেন্টিনা অবশ্য সফল। রাশিয়ার প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি হিসেবে স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিলো তারা। তাও আবার মেসিকে ছাড়াই পেরিয়ে গেছে ইতালি-বাধা।