আফ্রিদি ঝড়ে হেরে গেলো সিলেট

 
 

৪৫৪৫৪

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: কোনো এক বোলার যদি একাই নেন ৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে মাত্র ১৭ বলে তুলে নেন ৫ ছক্কায় ৩৭ রান, তাহলে প্রতিক্ষের কী অবস্থা হতে পারে তখন? প্রশ্নটির জবাব খোঁজার জন্য বিপিএলে আজ ঢাকা এবং সিলেটের ম্যাচের দিকে তাকালেই যথেষ্ট। একা এক শহিদ আফ্রিদিই হারিয়ে দিলেন সিলেটে উড়তে থাকা সিলেট সিক্সার্সকে।

জয়ের জন্য ১০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আফ্রিদিই বলতে গেলে একা সিলেটকে দুরমুশ করে ছেড়েছেন। ১৭ বলে তার টর্নডো গতির ব্যাটিংয়ের কাছে হেরে যায় সিলেট। জয়ের লক্ষ্য ১০২ রান তাড়া করতে ঢাকা ডায়নামাইটসের প্রয়োজন হলো মাত্র ৭.৫ ওভার। অর্থাৎ ১২.১ ওভার (৭৩ বল) হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল এক জয় তুলে নিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। এ আসরে এটিই দ্রুততম জয়ের রেকর্ড।

বল হাতে একাই চার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন শহিদ আফ্রিদি। এরপর ব্যাট হাতে ওপেন করতে নেমে সিলেটের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন বুমবুম আফ্রিদি। মূলতঃ বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর আফ্রিদির দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়েই বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা।

১০২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখিভাবে খেলতে থাকেন ঢাকার দুই ওপেনার শহিদ আফ্রিদি এবং এভিন লুইস। আফ্রিদি ৫টি ছক্কা এবং এক বাউন্ডারির সাহায্যে ১৭ বলে ৩৭ রান করেন। তবে দলীয় ৫৯ রানে টিম ব্রেসনানের এলবির ফাঁদে পড়েন সাজঘরে ফেরেন তিনি। না হয়, আরও কত দ্রুত যে জয় পেয়ে যেতো ঢাকা!

আফ্রিদির ফেরার পর উইকেটে আসেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট; কিন্তু পরের বলেই ডেলপোর্টকেও প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দেন ব্রেসনান। ফলে হ্যাটট্রিকের দারুণ এক সম্ভাবনা তৈরি হয় ব্রেসনানের; কিন্তু এভিন লুইস সে সুযোগ গ্রহণ করতে দেননি ব্রেসনানকে।

বাকি সময়ে সিলেট আর কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। সাকিব আর এভিন লুইস মিলে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। লুইস ১৮ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪৪ রানে। ২টি বাউন্ডারির সঙ্গে তিনিও মারেন ৫টি ছক্কার মার। সাকিব আল হাসান ছিলেন ১৮ রানে অপরাজিত। দু’জনে মিলে গড়েন ৪৭ রানের জয়সূচক জুটি।

সিলেটের হয়ে ব্রেসনান ছাড়া আর কেউ উইকেটের দেখা পাননি। এই জয়ের ফলে সিলেট পর্বের হারের যেন মধুর প্রতিশোধই নিলো ঢাকা ডায়নামাইটস। বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর দুর্ধর্ষ ব্যাটিং। সুতরাং, চোখ বন্ধ করেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠলো শহিদ আফ্রিদির হাতেই।

এর আগে ঘরের মাঠে উড়তে থাকা সিলেট সিক্সার্স ঢাকায় এসেই যেন তাল হারিয়ে ফেলে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আফ্রিদি, সুনিল নারিন আর আবু হায়দার রনির সাঁড়াশি বোলিংয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০১ রানে থামতে বাধ্য হয়।