আজ ৮ রমজান : তাকওয়ার যথাযথ ব্যবহারে সঠিক পরহেজগার হওয়া সম্ভব

 
 

*মাওলানা মাহমুদুল হাসান*
1111.psdআজ ৮ রমজান ১৪৩৮ হিজরি। রহমতের দশকের শেষ প্রান্তে আমরা উপনীত। এখন সকলেরই হিসাব করে দেখা উচিত, আমরা এ মাহাত্ম্য পূর্ণ মাস রমজান পেয়ে কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কেনো ব্যক্তির সমগ্র জীবনের তাসফিয়ায়ে বাতেন বা আধ্যাত্মিক সাধনা এবং আখেরাতের মুক্তি ও নিষ্কৃতির চিন্তা-চেতনা ও মনোনিবেশের মধ্যে সে তাকওয়া ও পরহেজগারির প্রয়োগ ও বিন্যাস সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের ব্যবহারিক জীবনের সুপ্রশস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকান্ডের সব দিকে এবং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় জীবনের সকল প্রান্তে তাকওয়ার যথাযথ সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগের দ্বারাই মানুষ সঠিক পরহেজগার বা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।

আমাদের সমাজের চিত্র ভিন্ন। ব্যক্তিজীবনে অনেকেই ইসলামের অনুশাসন মেনে চললেও সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ-অনুকরণে পুরোপুরি উদাসীন থাকেন। বিবাহশাদিসহ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে ইসলামনির্দেশিত পদ্ধতি অনেকটাই অনুপস্থিত থাকে। এটা রীতিমতো হতাশ ও লজ্জাকর ব্যাপার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে এমনকি আত্মীয়স্বজনের হক ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আল্লাহ পাককে ভয় করো। আমরা দেখতে পাই, মুসলমান বর-কনের বিবাহের মজলিসে খুৎবা দেওয়ার সময় সেই আয়াতটি তিলাওয়াত করা হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে এই যে, যেন স্বামী-স্ত্রী ও উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন পারস্পরিক লেনদেন, আচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করে আল্লাহ পাকের আজাব ও গজবের জাঁতাকলে নিস্পেষিত না হয়, সে সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন করা। এ প্রসঙ্গে সূরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তোমাদের নিকট যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। এই আয়াতের মর্মার্থ হলো-আদেশ এবং নিষেধ সার্বিকভাবে মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে অংশ বিশেষকে মানার কোনো প্রশ্নই আসে না। কেননা আল্লাহ প্রদত্ত হুকুম আহকাম সুন্নাত বা আদর্শের সার্বিক দিক মেনে না চলার পরিণাম ও পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করে সাবধানবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে, আল্লাহকে ভয় করো এবং এই নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে যে আমি তোমাদের যা-কিছু দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং এর মধ্যে যা আছে তা স্মরণ করো যাতে তোমরা মুক্তি লাভে সক্ষম হও। সুতরাং জীবনের সকল ক্ষেত্রেই তাকওয়া ও পরহেজগারি প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন। এর ব্যপ্তি ও পরিধি জীবনের সকল ক্ষেত্রে এমনকি আত্মীয়স্বজন ও সৃষ্টিকুলের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

মোট কথা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদারকে জীবন চলার সকল স্তরেই তাকওয়া ও পরহেজগারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং আল্লাহর ভয়কে অন্তরে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। আল কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে, মুমিনরা একে অপরের ভাই। অতএব ভ্রাতৃকুলের মাঝে কোনো বিবাদের সূত্রপাত হলে তা মিটমাট করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো। (সূরা হুজুরাত আয়াত-১০) সুরায়ে বাকারায় আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের জন্য কিসাস অর্থাৎ, হত্যার পরিবর্তে হত্যা নীতির মধ্যে জীবন নিহিত রয়েছে।

এই আয়াত সমূহের মর্মার্থ হলো, মুমিন-মুসলমানদের জীবন ও জিন্দেগির সকল পরিসরে আল্লাহর বিধান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) আদর্শ মেনে চলার মাঝেই রয়েছে মুক্তি ও নিষ্কৃতির গ্যারান্টি। এই গ্যারান্টিকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার শিক্ষা পরিপূর্ণতা লাভ হয় সিয়াম সাধনার মাধ্যমে। যার প্রতিদান ও বিনিময় একমাত্র আল্লাহ পাকই প্রদান করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, “সিয়াম সাধনা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই তার প্রদিান প্রদান করব। (হাদিসে কুদসি)। এই আশ্বাস ও নিশ্চিন্ত বিনিময় লাভের শুভসংবাদ পাওয়ার পর প্রত্যেক মুমিন মুসলমনের উচিত, আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দি ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় এবং তাকওয়া ও পরহেজগারি অর্জনের লক্ষ্যে সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগ করা ও নিজের জীবনকে পাপমুক্ত ও নির্মল করে গড়ে তোলা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মুক্তি ও নিষ্কৃতির পথ সুগম করে দিন। আ-মিন