আজ ৬ রমজান : রোজাদারদের উচিত পাপাচার ও কামাচার থেকে মুক্ত থাকা

 
 

*মাওলানা মাহমুদুল হাসান*

Mahe-Ramzan 6আজ ৬ রমজান ১৪৩৮ হিজরি। রহমতের ৬ষ্ঠ দিন। মাহে রমজানুল মুবারকের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়া ও পরহেজগারি অর্জনের ল্েয প্রত্যেক রোজাদারদের উচিত নিজের জিহবা, রসনা, মুখ এবং লজ্জাস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এগুলোকে পাপাচার ও কামাচার থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্ত ও পবিত্র রাখা।

প্রিয় নবী রাসুলে মক্কবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি আমাকে তাঁর দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (অর্থাৎ, জিহ্বা-মুখ) এবং পদযুগলের মধ্যবর্তী বস্তুর (অর্থাৎ, লজ্জাস্থানের) হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশের আশ্বাস দিচ্ছি।” এই হাদিসটি ইমাম বুখারি (রহ.) বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সাহুল ইবনে সাআদ (রাজি.) সূত্রে স্বীয় গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। এই হাদিসের অর্থ ও মর্মের প্রতি গভীর দৃষ্টিতে থাকলে এ কথা সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, মানুষ পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো দুটি। এর একটি হচ্ছে, জিহ্বা বা মুখ এবং অপরটি হলো, লজ্জাস্থান। এই দুটি অঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে  পারলেই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের পে জান্নাতে প্রবেশ করা সহজতর হবে। এ প্রসঙ্গে  হজরত সাহল ইবনে সাআদ (রাজি.) বর্ণিত হাদিসে রহমতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে-মুমিন মুসলমান দুনিয়াতে আমার নিকট এই নিশ্চয়তা দিতে পারবে যে সে তাঁর রসনাকে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত পাপমুক্ত ও নিষ্কলুষ মুক্ত রাখতে সম হয়েছে, তবে আমি নবী (সা.) তাঁর জান্নাত লাভের জামিনদার হবো।

বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ মুল্লা কারি আলী (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে-লোক তাঁর দুই চোয়ালের এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী বস্তুর হেফাজতের দায়িত্ব নেবে, আমি তাঁর জান্নাতের জিম্মাদার হব। এখানে দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু বলতে জিহ্বা এবং মুখ বুঝানো হয়েছে। আর দুই পায়ের মাঝখানের বস্তু বলতে লজ্জাস্থানকে বুঝানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, যে-ব্যক্তি মুখ ও জিহ্বা দ্বারা খারাপ কথা বলবে না, হারাম খাদ্য ভণ করবে না এবং লজ্জাস্থান দ্বারা ব্যভিচার সমকামিতা বা এ ধরনের পাপ কাজে লিপ্ত হবে না, সে অবশ্যই জান্নাত লাভ করার বা জান্নাতে প্রবেশ করার কিংবা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে আসীন হওয়ার যোগ্যতা লাভে ধন্য হবে। এই আশ্বাসবাণীই আমরা রাসুলে আকরাম নূরে, মুজাচ্ছাম হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবান মোবারক দ্বারা লাভ করলাম।
জবানের হেফাজতে বলতে যা বুঝায়-মানুষ তার মুখ দ্বারা কুফুার, ফুসুকি, গিবত, পরনিন্দা, গালিগালাজ অনর্থক কথাবার্তা বলবে না। তেলাওয়াত জিকির-আজকার তসবিহ-তাহলিল ওয়াজ-নছিহত ইত্যাদি ভালো কাজে তার জবান তথা জিহ্বা বা মুখ ব্যবহার করবে। অথচ আমাদের সমাজে অনেক রোজাদার রয়েছেন, যাঁরা সারা দিন পরনিন্দা বা গিবতের মতো গর্হিত কাজে তাদের জবানকে ব্যবহার করে থাকেন।

অপর এক হাদিসে হজরত রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে-ই প্রকৃত মুসলমান ‘যার যার যবান জিহ্বা এবং হাত থেকে অপর মুসলমান হেফাজত থাকে। মুহাদ্দিসিনরা বলেছেন, যে-লোক এই দুটি বিষয়ে নিজেকে স্বচ্ছ রাখতে সম হবে, তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই শ্রেণির বান্দাহদের শুভসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তাঁরাই হচ্ছে উত্তরাধিকারী, যারা জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে এবং তাঁরা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবে।

বস্তুত একজন সিয়াম সাধনাকারীকে অবশ্যই তাঁর রসনার হেফাজত করতে হবে এবং নিরর্থক ও বেহুদা কথাবার্তা গানবাজনা ও গালগল্প হতে নিজেকে মুক্ত ও পবিত্র রাখতে হবে। একই সাথে যৌনাঙ্গের হেফাজতও তাকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় তাঁর পানাহার বর্জন করার কোনো মূল্যই থাকবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের রসনা ও লজ্জাস্থানের পরিপূর্ণ হেফাজতসহ প্রকৃত সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগ করার তৌফিক দিন। আ-মিন