আজ ২ রমজান, এ মাসে গুনাহ পুড়ে ছারখার হয়ে যায়

 
 

*মাওলানা মাহমুদুল হাসান*

Mahe Ramzanআজ ২ রমজান ১৪৩৮ হিজরি। মহান আল্ল¬াহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে রমজান মাস সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন-রমজান মাস যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানবজাতির হেদায়তের জন্য। যা সত্য পথযাত্রীদের জন্য পথনির্দেশক এবং ন্যায় অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। আল্ল¬াহ তায়ালা শরিয়তে রোজার জন্য রমজান মাসকে নির্ধারণ করেছেন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক বালেগ মুসলমান নর-নারীর জন্য রোজা রাখা ফরজ। যে- ব্যক্তি রোজা ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করবে, সে কাফের হয়ে যাবে। আর যে-ব্যক্তি শরয়ি ওজর ছাড়া রোজা পরিত্যাগ করবে, সে মহাপাপী ও ফাসেক হবে। যে-ব্যক্তি রোজা না রেখে নামাজ, জাকাত ও হজ পালন করবে, তাঁর পরিত্রাণের জন্য এতটুকু আ’মল যথেষ্ট নয়। রোজার মধ্যে এমন একটি বিশেষত্ব আছে, যা অন্য কোনো ইবাদতে নেই। আর তা হলো এই যে, রোজার মধ্যে কোনোরূপ ‘রিয়া’ অর্থাৎ, লোক-দেখানো উদ্দেশ্য থাকে না বরং আল¬াহর সন্তুষ্টি লাভই এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। সুতরাং এর বিনিময়ে আল¬াহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বিশাল পুরস্কার।

রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ‘নিজামুল আওকাত’ বা সময়ের একটি রুটিন করে নেওয়া উচিত। কীভাবে এই মাসটি অতিবাহিত করবে তার একটি সুনির্দিষ্ট টাইমটেব্ল থাকা জরুরি। অন্যান্য সময়ের যে কাজগুলো স্থগিত করা যায় রমজান মাসে সেগুলো স্থগিত করে নেবে। রোজা রাখা আর তারাবিহর নামাজ আদায় করা তো এই মাসের রুটিন মাফিক কাজ। এগুলো তো প্রত্যেক মুসলমান আন্জাম দেবেই, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যান্য ইবাদতও যেন যথার্থ সময় অনুযায়ী পালন করা যায়, তার জন্য পূর্বনির্ধারিত রুটিনের বিকল্প নেই।

রমজান আরবি শব্দ যার অর্থ হলো ‘ঝলসিয়ে দেওয়া’ অর্থাৎ, যে-আগুনে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়। রমজান হিসেবে মাসটির নামকরণের কারণ বলা হয়েছে, প্রথম রমজান মাসটির যখন সূচনা হয়েছিল তখন প্রচন্ড গরম ছিল। রোদের তাপদাহে সবকিছু পুরে জ্বলে ঝলসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ কারণেই মানুষ মাসটির নাম রমজান রেখে দেন। উলামায়ে কেরাম বলেন, এই মাসটিকে রমজান এ জন্য বলা হয়, কেননা আল্লাহ তায়ালা নিজের অনুগ্রহ, অনুকম্পায় এ মাসে বান্দার ওপর এত রহমত বর্ষণ করে থাকেন যে, তাঁর দয়া-অনুকম্পায় বান্দার বিগত দিনের গুনাহগুলো পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গেই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যাতে তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার।

রোজার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নাত ও সওয়াবের কাজ। বিশ্বনবী সাল্ল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম ইরশাদ করেছেন, তোমরা সাহরি খাবে এতে অত্যন্ত বরকত হবে। পেট ভরে সাহরি খাওয়া জরুরি নয়। দুই বা এক লোকমা অথবা খেজুরের টুকরো কিংবা দু’চার দানা খেলেও যথেষ্ট। সুবহে সাদিকের আগে রাতের শেষভাগে সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। যদি সাহরি খেতে বিলম্ব হয়ে যায় এবং প্রবল ধারণা হয় যে, ভোর হওয়ার পর কিছু পানাহার করেছে তবে এ অবস্থায় সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ত্যাগ করা এবং পরে এই রোজা কাজা করা ওয়াজিব।

আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে-অনেকে মনে করেন, সাহরি খেতে না পারলে রোজা রাখা ঠিক নয়। এটা মারাত্মক একটি ভুল ধারণা। এটা পরিত্যাগ করা অতীব জরুরি। সূর্যাস্তের পর ইফতার করতে বিলম্ব করা অনুচিত। কিন্তু আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সাবধানতার জন্য কিছু সময় বিলম্ব করা উত্তম। খেজুর কিংবা খোরমা দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। তা না হলে অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য বা শুধু পানি দ্বারা ইফতার করবে। আগুনে পাকানো খাদ্য, রুটি ভাত, শিরনি, পোলাও ইত্যাদি দ্বারা ইফতার করা দূষণীয় নয়। কিন্তু ফল ইত্যাদি দ্বারা ইফতার করাই উত্তম। ইফতার করার পূর্বে এই দোয়া পড়তে হয়-(আল্ল¬াহুমা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু)। এর অর্থ-হে আল্ল¬াহ আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই প্রদত্ত রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।