আজ পয়লা রমজান : সংযম ও পুণ্যের উৎসব শুরু

 
 

*মাওলানা মাহমুদুল হাসান *

Mahe Ramzanশোখ আমদেদ মাহে রমজান। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হযেছে মাহে রমজানুল মোবারক ১৪৩৮ হিজরি। আজ পহেলা রমজান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুমিন-মুসলমানরাও মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশমতো পবিত্র রোজা পালন শুরু করেছেন। ২৭ মে শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমাকাশে রূপালি চাঁদ হেসে ওঠার মধ্য দিয়ে পুণ্যময় মাহে রমজানের আগমনী বার্তা ঘোষিত হয়েছে দেশের প্রতিটি ঘরে। আরবি হিজরি সনের নবম মাস রমজান। নানা বৈশিষ্ট্য ফজিলত, তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে প্রতিবছর মোবারক এ মাসটির আগমনে মুমিন মুসলমানদের জীবনে নেমে আসে সংযম ও পুণ্যের উৎসব। হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার বিধান প্রবর্তন হয়।

সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা ও বৈধ জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা বা রোজা। ইসলামের পঞ্চ ভিত্তির এটি হচ্ছে তৃতীয়। রমজানুল মোবারকের অপরপর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা। মুসলমানদের জন্য এ মাসটি সংযম সাধনা ধৈর্য ও সহানুভূতির মধ্য দিয়ে অগণিত পুণ্য ও সৌভাগ্য লভের এক পূর্ণ রাতে মক্কা নগরীর হেরা গোহায় সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল মুহাম্মাদুর রাসুলুল¬াহ সালল্লাল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬ামের উপর পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা হয়।

রমজানুল মোবারকেই ইসলমের প্রথম সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী জিহাদ-বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ মাসে বেহেশতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। প্রধান প্রধান শয়তানদের বন্দি করে রাখা হয়। এ মাসে একটি মানুষ ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ বেশি গণ্য করা হয়। এবং যে-কোনো নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজ ইবাদতের সমতুল্য গণ্য করা হয়। এ মাসেই রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে।

তাফসির ও ইতিহাসবিদদের মতে রোজা বা উপবাস ব্রতের ধারণা ও চর্চা আবহমান কাল থেকেই চলে আসছে। হজরত আদম (আ.) হজরত নূহ (আ.) হজরত মুসা (আ.) হজরত দাউদ (আ.) হজরত ইসা (আ.)-এর যুগে রোজার বিভিন্ন ধরন চালু ছিল। বর্তমান ইয়াহুদি খ্রিষ্টান, পারসিক অগ্নিপূজক ও হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও উপবাস ব্রতের নিয়ম বিদ্যমান রয়েছে। মানব স্বভাবের রিপু ও প্রভৃতি দমনের লক্ষেই এ সাধনা করা হয়। তবে ইসলাম উপবাস ব্রতের এ সাধনার একটি ভারসাম্যময় ও কার্যকর রূপ উপহার দিয়েছে। রোজার তাৎপর্য উলে¬খ করে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, কুতিবা আলাইকুমুসসিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন। অর্থাৎ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারাহ ১৮৩)।

তাক্ওয়া ব্যাপক অর্থবোধক একটি শব্দ। সাধারণভাবে যার অর্থ করা হয়-আল্ল¬াহর ভয়ে নিজের অভ্যন্তরের রিপু দমন করে আল¬াহর আদেশ নিষেধ মেনে চলা। রোজা মুমিন বান্দাহর অন্তরে আল্ল¬াহ-ভীতি ও আত্মসমর্পণ জাগিয়ে তাকে পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দেন। ক্ষুধা-পিপাসা ও সংযমের পবিত্র দহনে রোজাদার মুমিন মাত্রের জীবনেই ধৈর্যও সহানুভূতির শিক্ষা বাস্তব হয়ে ওঠে।

পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে, রোজা ঢাল স্বরূপ পাপ ও পাপের পরিণতি জাহান্নাম থেকে রোজা বিশ্বাসী বান্দাদের মুক্তির বার্তা শোনায়। একই সঙ্গে রোজা এক মুসলমানকে অপর মুসলমানের পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে দাঁড়াতেও শেখায়। রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল বানায়। রোজা হচ্ছে মুমিনের জন্য সংযত, তাক্ওয়া, সহানুভূতি ও ধৈর্যের প্রশিক্ষণের মাস, পুণ্য ও সৌভাগ্যের বসন্ত থেকে উপকৃত হওয়ার মাস। তাই রমজানের প্রথম দিনের প্রথম লগ্ন থেকে এ মাসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যথাযথ মাসআলাও নীতি অনুসরণের মাধ্যমে গুনাহ মাফ ও পুণ্য লাভের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা প্রত্যেক মুসলমনের কর্তব্য। আল¬াহ তায়ালা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রমজানের সকল আহকাম পালনের তৌফিক দিন। আ-মিন।