অজানা ১০ ওয়েব ব্রাউজার চিনুন

 
 

6765786

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে হলে ওয়েব ব্রাউজারের বিকল্প নেই। ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য বেশকিছু ওয়েব ব্রাউজার থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি ওয়েব ব্রাউজারই জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স, অপেরা এবং বিশেষ করে অ্যাপল ব্যবহারকারীদের কাছে সাফারি। এগুলোর বাইরেও রয়েছে প্রচুর ওয়েব ব্রাউজার যেগুলোর খোঁজ অনেকেই জানেন না।

কোউন: মূলত গেমারদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে কোউন ব্রাউজারটি। ব্যালিস্টিক থেকে শুরু করে ফার্মভিল ২—ওয়েবে খেলা যায় এমন প্রায় সব ধরনের গেম খেলার জন্যই বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে ক্রোমিয়াম ইঞ্জিনে ডিজাইন করা কোউনে। এসব সুবিধার মধ্যে প্রথমেই বলতে হবে এই ব্রাউজারের বিশেষ সাইডবারের কথা। এখান থেকে গেমের প্রতিটি মুহূর্তের মাউসের ক্লিকগুলোও রেকর্ড করে রাখা যায়। কোউনে রয়েছে বিল্ট-ইন স্ক্রিনশট টুলস যা দিয়ে গেমের যেকোনো সময়ের স্ক্রিনশট ধারণ করা যাবে। খুব সহজেই কিবোর্ড এবং গেমপ্যাড কন্ট্রোলের মধ্যে সুইচ করার জন্য রয়েছে বিশেষ আইকন। http://coowon.com ঠিকানা থেকে উইন্ডোজ এবং ম্যাকের জন্য ডাউনলোড করা যাবে কোউন ব্রাউজার।

টর্চ: মাল্টিমিডিয়া নিয়ে যাদের আগ্রহ বেশি, তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে টর্চ ওয়েব ব্রাউজারটি। বিশেষ করে মিউজিক এবং গেমিংয়ের জন্য এটি বেশ উপযোগী। এতে রয়েছে টর্চ মিউজিক নামে ইউটিউব-নির্ভর একটি স্ট্রিমিং সেবা। ওয়েবে খেলার উপযোগী সব গেমকে এক স্ক্রিনে নিয়ে আসতে রয়েছে টর্চ গেমস। বিভিন্ন কাজের জন্য ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ সুবিধাও রয়েছে ক্রোমিয়াম ইঞ্জিনে ডিজাইন করা টর্চে। যেমন—কোনো ওয়েব কনটেন্টকে এই ব্রাউজারের বাম দিকে ড্র্যাগ করে ছেড়ে দিলে ওই কনটেন্টটি সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে শেয়ার করার অপশন চলে আসবে। আবার ডান দিকে কোনো কনটেন্ট নিয়ে ছেড়ে দিলে ওই কনটেন্টের সংশ্লিষ্ট তথ্য সার্চ করার সুবিধা মিলবে। ইউটিউব বা ভিমিও থেকে যেকোনো ভিডিও ডাউনলোডের জন্য বিল্ট-ইন টুলস কিংবা বিল্ট-ইন টরেন্ট ক্লায়েন্ট থাকায় এটি মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ডাউনলোডের জন্যও আদর্শ। www.torchbrowser.com সাইটে গিয়ে ডাউনলোড করা যাবে টর্চ ব্রাউজার।

লুনাস্কেপ: ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ক্রোম না কি ফায়ারফক্স— যারা এদের মধ্য থেকে পছন্দের ওয়েব ব্রাউজারটি বেছে নিতে দ্বিধায় থাকেন, তারা বেছে নিতে পারেন লুনাস্কেপকে। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ট্রাইডেন্ট, ফায়ারফক্সের গিকো এবং সাফারির ওয়েবকিট ব্রাউজিং ইঞ্জিনের সমন্বয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এটি। ওয়েব ব্রাউজিংকে সহজ করতে এবং ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা প্রদান করতে এতে রয়েছে নানা ধরনের টুলস। এতে বিল্ট-ইন একটি স্ক্রলিং নিউজি ফিডও রয়েছে, যেখানে আপনার পছন্দমতো সংবাদপত্রের সাইটকে যুক্ত করে দিতে পারবেন। রয়েছে বিল্ট-ইন আরএসএস ফিড। তিনটি ইঞ্জিনে চালিত এটিই বিশ্বের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার। www.lunascape.tv ওয়েবসাইট থেকে এটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

কমোডো আইসড্রাগন: প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কমোডোর তৈরি আইনড্রাগন ব্রাউজারে মূলতই মনোযোগ দেয়া হয়েছে নিরাপত্তার দিকে। ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার স্ক্যানিং থেকে শুরু করে তথ্যের সুরক্ষার জন্যও কাজ করবে আইসড্রাগন ব্রাউজারটি। কমোডোর সিকিউর ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার করে এটি ম্যালওয়্যারের পাশাপাশি ফিশিং এবং স্পাইওয়্যার ওয়েবসাইটগুলো থেকেও সুরক্ষিত রাখবে ব্যবহারকারীকে। ওয়েব কনটেন্ট শেয়ারিং এবং সার্চ করার জন্য এটিও ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ ফিচার সমর্থন করে। সবমিলিয়ে অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্য আইনড্রাগন হতে পারে আদর্শ একটি পছন্দ। http://goo.gl/v12pjc লিংক থেকে ডাউনলোড করা যাবে এই ব্রাউজার।

ভিভালডি: বলতে গেলে যারা অতিরিক্ত ব্রাউজিং করে থাকেন, তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ভিভালডি ব্রাউজার। ক্রোমিয়ার ইঞ্জিনে তৈরি ব্রাউজারটিকে হার্ডকোর পাওয়ার ইউজারদের জন্য আদর্শ মনে করা হয়। এখনও পর্যন্ত টেকনিক্যাল প্রিভিউতে থাকা এই ব্রাউজারের অনেক ফিচারই অপেরার কথা মনে করিয়ে দেবে। স্পিড ডায়াল ফিচারের পাশাপাশি এতে রয়েছে বিল্ট-ইন নোট-টেকিং অ্যাপ। বিল্ট-ইন ইমেইল ক্লায়েন্ট যুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে ভিভালডিতে। এটি ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন vivaldi.com।

সি মাংকি: প্রায় দশ বছর ধরে বাজারে রয়েছে সি মাংকি ওয়েব ব্রাউজারটি। তবে এর মূলমন্ত্রটি এরা ধরে রেখেছে। একটি ব্রাউজার খুলেই যেন সব ধরনের কাজ করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই কাজ করে যাচ্ছে সি মাংকি। একে অনেকটাই অল-ইন-ওয়ান ব্রাউজিং প্যাকেজ বলা যায়। এতে রয়েছে ইমেইল ক্লায়েন্ট, আরএসএস নিউজগ্রুপ ক্লায়েন্ট, এইচটিএমএল এডিটর, আইআরসি ক্লায়েন্টের মতো সব বিশেষ বিশেষ সব সেবা। শুধু তাই নয়, অ্যাড-অনের মাধ্যমে টরেন্ট ক্লায়েন্টও গিকো ইঞ্জিনে ডিজাইন করা এই ব্রাউজারেই যুক্ত করে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। www.seamonkey-project.org সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে সি মাংকি ব্রাউজারটি।

মিডোরি: যারা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য পিসিতে খুব একটা চাপ দিতে চান না, তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে মিডোরি ব্রাউজারটি। খুবই হালকা এই ব্রাউজারটি ওয়েবকিট ইঞ্জিনে ডিজাইন করা হয়েছে। মূলত কম কম্পিউটিং ক্ষমতার লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের জন্য এটি তৈরি করা হলেও এর রয়েছে উইন্ডোজ সংস্করণ। আর লিনাক্সের মতো এটিও খুবই কম ক্ষমতার কম্পিউটারেও ভালোভাবে চলতে পারে। খুবই সাদাসিধা এই ব্রাউজারটির ইন্টারফেস অনেকটাই উইন্ডোজ এক্সপির কথা মনে করিয়ে দেবে। রেসপন্সিভ এই ব্রাউজারের একটি পোর্টেবল সংস্করণও রয়েছে যা যেকোনো পেনড্রাইভেই নিয়ে বেড়াতে পারবেন। এর ডাউনলোড লিংক midori-browser.org।

ম্যাক্সথন ক্লাউড ব্রাউজার: নাম থেকেই ধারণা করা যায়, ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের দিকে এটি বেশি মনোযোগী। আদতেও ঘটনা তাই। ম্যাক্সথনে রয়েছে ‘পাসপোর্ট’নামে ক্লাউড অ্যাকাউন্ট যা সব ধরনের ডিভাইসে আপনার ব্রাউজিংয়ের সকল তথ্য সিনক্রোনাইজ করে রাখবে। বিকল্প ব্রাউজারগুলোর মধ্যে ম্যাক্সথনেই এটি রয়েছে কার্যকরীভাবে। এই ব্রাউজার দিয়েই কনটেন্ট শেয়ার করা যায় ইমেইল বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে। আরএসএস ফিড রিডার, নোট প্যাড, অ্যাডব্লক প্লাস প্রভৃতি ফিচার এর কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়েছে ম্যাক্সথনের নিজস্ব গেমস সাইট। ট্রাইডেন্ট ও ওয়েবকিট ইঞ্জিনে ডিজাইন করা এই ব্রাউজারে কেবল ওয়েব টেক্সট পড়ার জন্য আলাদা ‘রিডার মোড’ও রয়েছে। ম্যাক্সথন ডাউনলোড করতে চাইলে ভিজিট করুন www.maxthon.com/”>www.maxthon.com।

এপিক প্রাইভেসি ব্রাউজার: ওয়েব ব্রাউজিংয়ের তথ্য নিয়ে যারা একটু শংকিত তারা বেছে নিতে পারেন এপিক প্রাইভেসি ব্রাউজার। গুগল ক্রোমের মতো এটি ক্রোমিয়ার ইঞ্জিনে তৈরি হলেও এতে ব্রাউজিংয়ের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফিচার। বিল্ট-ইন প্রক্সি, সবসময় প্রাইভেট ব্রাউজিংয়ের সুবিধা, থার্ড-পার্টি কুকি ও ট্র্যাকার থেকে সুরক্ষিত থাকতে বিল্ট-ইন ব্লকার প্রভৃতি একে বেশ নিরাপদ করে তুলেছে। তবে যারা গুগলের অ্যাকাউন্টের সকল তথ্য সিনক্রোনাইজ করে নিতে চান, তারা এটি ব্যবহার করবেন না। কারণ এটি গুগল অ্যাকাউন্ট ইন্টিগ্রেশন সমর্থন করে না। www.epicbrowser.com সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে এপিক প্রাইভেসি ব্রাউজার।

ব্রাউজার: এপিক ব্রাউজারের মতো ব্রাউজারও (Browzar) নামের ওয়েব ব্রাউজারটিরও মূল লক্ষ্য ওয়েব ব্রাউজিংয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা। এটি ব্রাউজিংয়ের কোনো তথ্যই সংরক্ষণ করে না। পিসিতে এর ইন্সটলেশনের পদ্ধতিও অন্যদের চেয়ে সহজ। বিভিন্ন ধরনের স্কিন অপশন থাকবে এতে। সেটি নির্বাচন করে এর সেটআপ ফাইলটিতে (মাত্র ২২২ কিলোবাইট!) ডাবল ক্লিক করলে সাথে সাথেই এটি ইন্সটল হয়ে যাবে। মজার বিষয় হলো— এটি পরিচালনার সময় আপনার উইন্ডোজে থাকা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারকে অনেকটাই ব্যবহার করবে। এটি চলতে চলতেই ওয়েব, ফ্ল্যাশ ও জাভা ক্যাশ ডিলিট করে দেয়। ওয়েব হিস্টোরিও সংরক্ষণ করে না এটি। ব্রাউজিংয়ের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে ব্রাউজার (Browzar) ব্যবহার করতে চাইলে ভিজিট করুন www.browzar.com।